Prasanga Satyajit : Chalachittro Somalochona
ভারতের শিক্ষিত উচ্চ এবং মধ্যবিত্ত সংস্কৃতিতে সত্যজিতের ছবি দোষ-গুণ নিয়ে একটি বিশিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে আছে সামগ্রিক ভাবে। সময়ের সঙ্গে নিরন্তর সংগ্রাম করে তিনি ছবি করেছেন। ছবি বিচার করার, বিশ্লেষণ করার-দেশজ বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে, আমাদের সমাজ রাজনীতি সংস্কৃতির পটভূমিকে সামনে রেখে, কেননা বর্তমানে সত্যজিৎ-এর সৃষ্টিকে ঘিরে বহু প্রশ্ন সামনে চলে আসছে, সামগ্রিক ভাবে চলচ্চিত্রের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়েও জড়িত।
সুতরাং সত্যজিৎ রায়ের ছবির গুরুত্ব অনুসারে সানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ প্রয়োজন, চলচ্চিত্রে এতাবৎকালের ভূমিকায় সামগ্রিক মূল্যায়নের জন্যও।
সত্যজিতের ছবিগুলিকে বিভিন্ন পর্বে ভাগ করা হয়েছে। ভাগটি অবশ্যই কালভিত্তিক। কিন্তু এগুলি গুণভিত্তিক হয়ে গেছে কিনা-সেটি ভাববার বিষয়।
ক্লাসিক পর্বের ছবিগুলির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মহৎ 'অপু-ত্রয়ী'-বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এতাবৎকালের শ্রেষ্ঠ চিত্র-ত্রয়ী আলোচনায় বা বিশ্লেষণে দেখাবার চেষ্টা করা হয়েছে, তথাকথিত দিকপাল সব ব্যাখ্যাকারদের দৃষ্টিভঙ্গি কোথায় সীমাবদ্ধ, দেশজ-সাংস্কৃতিক-সামাজিক ভূমিকায় চিত্র-ত্রয়ীর ব্যাখ্যা কত গভীর হতে পারে, এই চিত্র-ত্রয়ীর মহৎ, মানবিক মাধুর্য কোথায়।
সত্যজিতের ছবিগুলিকেই পাঠ্য হিসাবে ধরে আমরা চলচ্চিত্র ভাষা বুঝতে শিখেছি। কিন্তু নিজের প্রথম দিককার প্রাগ্রসর মহৎ ছবিগুলির ব্যাখ্যার কাজে তিনি নিজে কোন ভূমিকা গ্রহণ করেননি। সচতেনভাবে ব্যাখ্যার ভার ছেড়ে দিয়েছিলেন বিদেশীদের হাতে। আমাদের উপায় ছিল না বিদেশী আলোচনা বা বিশ্লেষণগুলিকে গলাধঃকরণ করা ছাড়া। তখন অবশ্য চলচ্চিত্র শিক্ষা বা বোধ খুবই দীন অবস্থায় ছিল, ফলে দেশের সাংস্কৃতিক-সামাজিক ভিত্তিতে ছবির মূল্যায়ন করার জন্য স্বাবলম্বী মনোভাব এবং আত্মশক্তির দৃঢ়তা থাকা জরুরি, আত্যন্তিক পরনির্ভরতার জন্য তা লাভ করতে আমাদের অনেক দেরি হয়ে গেছে।
আমরা যারা চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তারা নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছি সাংস্কৃতিক-সামাজিক ভিত্তিতে ছবির মূল্যায়ন করার।
বর্তমান সংকলনটি তেমনই একটি প্রচেষ্টামাত্র। পাঠকদের কাছে রাখলাম তার মূল্যায়ন করার ভার।
সবশেষে জানাই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ১৯২৯ সালে এক বিখ্যাত চিঠি লিখেছিলেন চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংগীতের তুলনা করে। চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যা এক অমূল্য দলিল। ঘোষিত হয়েছিল চলচ্চিত্রের স্বতন্ত্র শিল্প চরিত্রের কথা। বিশ্বকবির ভাষায় 'সুরের চলমান ধারায় সংগীত যেমন বিনা বাক্যেই আপন মাহাত্ম্য লাভ করতে পারে তেমনি রূপের চলৎপ্রবাহ কেন একটি স্বতন্ত্র রসসৃষ্টি রূপে উন্মোচিত হবে না।'
প্রসঙ্গ সত্যজিৎ : চলচ্চিত্র সমালোচনা
সম্পাদক : বিভাস মুখোপাধ্যায়
সহকারী সম্পাদক : সোনালী মৈত্রপ্রকাশনা : দে বুক স্টোর
ধারা : প্রবন্ধ
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪৩২
বাধাই : পেপারব্যাক

















